করোনাকালের কথা – Khoborbd24
করোনাকালের কথা

করোনাকালের কথা

তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি

জীবনের একটা বড় অংশ কেটেছে গ্রামে। বড় একটা বাড়ি ,১৫/২০ টা ঘর বিশাল উঠান। বিকেল হলেই নেমে যেতাম দাড়িয়া বান্ধা খেলতে। এরপর শহরে এলাম , এযাবতকাল বন্দী জীবন কেমন হয় কখনো বোধ করি নি। কোভিড-১৯ যখন বাংলাদেশে ছাড়ানো শুরু হল , সেই ১৬ ই মার্চ থেকেই ঘরে বন্দী । তবে একজন সমাজ সেবক হবার কারণে মানবিক সহায়তা প্রদানের কাজের জন্য হয় ঘর থেকে বের হতে হয় মাঝে মাঝে । এক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব মেনে এবং হ্যান্ড গ্লাভস মাক্স পড়েই বের হই । শেষ কবে প্রাণ ভরে শ্বাস নিয়েছি মনে নেই। খুব অস্থিরতা এবং সুস্থ পৃথিবী দেখার আকুলতা নিয়ে এক একটি দিন পার হচ্ছে । আমাদের টিম  যেহেতু , যৌন হয়রানী ,মাসিক সচেতনতা ,বাল্যবিবাহ,লিঙ্গবৈষম্য , মানসিক বিষন্নতা নিয়ে কাজ করে একঝাক শিশু ও তরুণীর মাঝে তাই প্রতিনিয়ত আমাদের সময় পার হত ওদের কলকাকলি ও উচ্ছ্বাসে ।স্বাভাবিকভাবে এই লকডাউনের জন্য আমাদের সকল কাজ বন্ধ , গ্যালারীতে পুরাতন কাজের ছবিগুলো দেখি আর শুধু মনে হয় কবে শেষ হবে এই মহামারি , কবে ফিরে যাবো আমাদের স্বাভাবিক জীবনে । আমাদের হাসিমুখ পাঠশালার শিশুগুলির জন্য খারাপ লাগে , ওদেরও স্কুল বন্ধ ,আমাদের হাতে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস আছে সময় পার হয় ,কিন্তু ওরা ! এই ঘরবন্দি জীবন আমাদের শরীর ও মনের ওপর বেশ প্রভাব ফেলবে বলে আমি ধারনা করি । তবুও এই বিষাদগ্রস্ততা থেকে বাঁচতে নিজেকে ব্যস্ত রাখি নানা কাজে , যেমন , আবৃত্তি, বই পড়া, কোনো বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি ,সোস্যাল মিডিয়ায় মানুষকে সচেতন করা ,করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কি কি সমস্যা দেখা দেবে এবং কিভাবে সমাধান করা যায় সে সকল বিষয়ে নিয়ে আলোচনা বা চিন্তা করা , মাঝে মাঝে রান্না করে ইত্যাদি। এছাড়া কিছু অসহায় নারীদের হাতের কাজের তৈরি পন্য অনলাইনে বিক্রির জন্য সাহায্য করি ।এছাড়া পরিবার তো রয়েছেই , পরিবারের সকলের সাথে আড্ডা এবং ভালো মুহূর্তগুলি বোধকরি এই অবরুদ্ধ সময়েই কাটছে । মূলত নিজেকে প্রতিটা মূহুর্ত ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করি । সোস্যাল মিডিয়াটাকে আমি সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাচ্ছি এই সময়টায় , বিভিন্ন লাইভ আড্ডাগুলি দেখছি , মানুষকে হাসাতে ফানি ভিডিও পোস্ট করছি আবার কখনো আবৃত্তি শেয়ার করছি । যাতে অন্যদের সময়টাও একটু হলেও ভালো কাটে। তবে সত্যি বলতে হতাশ হই তখন , যখন দেখি তরুন সমাজ ,শিক্ষিত সমাজ এখনো সচেতন হয় নি । দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে কিছু মানুষ মানুষের ক্ষতি করার জন্য ওঁত পেতে আছে । এখনো দেশে ধর্ষণ হচ্ছে এখনো রাস্তায় নারীরা যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছে । এই ঘটনাগুলি খুব কষ্ট দেয় । তবে আমি বিশ্বাস করি , রাত গভীর হলে ভোর নিকটেই থাকে তাই আশা রাখি । সুস্থ হয়ে সবাই আবার হাসবো আবার চিৎকার করে গান গাইব , আবার স্কুলে স্কুলে রঙিন প্রজাপতিদের নিয়ে নেচে বেড়াবো। ধন্যবাদ khoborbd24 কে। 

 

লেখিকা-প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি নন্দিতা সুরক্ষা

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us at Facebook

Default description


This will close in 30 seconds