করোনায় চিকিৎসকদের স্যাক্রিফাইস – Khoborbd24
করোনাকালের কথা
Trending

করোনায় চিকিৎসকদের স্যাক্রিফাইস

ডাঃ ফাহরিন হান্নান

প্রথম ছবিটা দেখে পুরো রুপকথার রাজা রানী লাগছে, তাইনা? আসলেই তাই। কিরন আর রেজোয়ানা। দুজনেই ডাক্তার। মধ্যবিত্ত পরিবারের আদরের সন্তান। পাশ করে নিজেদের ডাক্তারী চলছিল ভালই, এরমধ্যেই উচ্চ শিক্ষার প্রস্তুতি চলছিল। ভালই যাচ্ছিল দিন কাল। এর মধ্যে হুট করে করোনা প্রকোপ। ডা. কিরন রেগুলারলি ডিউটি দিয়ে যাচ্ছিল – এর মধ্যে হালকা জ্বর। কিছু লক্ষন তার কাছে সন্দেহের লাগল। নিজেই হস্পিটাল এর এক রুমে বন্দী করল। বাসায় কাউকে জানায় নি। এর মধ্যে সারাটা দিন খাওয়া হয়নি তেমন কিছু। সারাদিন জ্বরে কুকড়ে থাকা। একবার বাড়ে আরেকবার কমে। কাউকে তেমন ডাকতেও ইচ্ছা হয়নি। হঠাৎ খুব দুর্বল লাগায় মনে হল কিছু খেয়ে ওষুধ টা খাওয়া উচিত। এর মধ্যে ডাক্তার বন্ধু বা ছোট ভাই বোন রা চেস্টা করল যদি দ্রুততম সময়ে তাকে খাবার পৌঁছে দেয়া যায়। এক ইন্টার্নে র সেহেরি র খাবার টা তাকে দেয়া হল, কোন রকমে খাবার পর মনে হলো- এভাবে চলতে দেয়া যায়না। বাসায় জানাবার পর খাওয়া দাওয়ার সমস্যা মিটলেও টেস্ট করবার জন্য স্যম্পল দেয়া যাচ্ছিল না কোন ভাবেই। কিভাবে দেবে সে- নিজে যেহেতু চিকিৎসক, সে জানে কত শত রোগি আর সে তুলনায় সাপ্লাই এর কত অভাব। রাত দিন এক করেও স্বাস্থ্যসেবা র কাঠামো ঠিক রাখা যাচ্ছেনা। বাসায় আসলো কিরন। চিলেকোঠায় বন্দী। প্রিয়তমার সাথে কথা হয় – ভিডিও কলে। পরের ছবি টা তখন কার ই। ওদের দুজনের মনের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। কিরন করোনা ভাইরাস টেস্টের স্যাম্পল দিয়েছে। রিপোর্ট যাই আসুক, কিরনের শরীর অনেক দুর্বল এবং সে জানে রিপোর্টে কি আসতে পারে। রেজোয়ানা ও জানে। এরপর ও তারা দুজনেই রাত দিন টেলিমেডিসিন এ ঢাকা কাস্টের হয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। রোগিরা জানাচ্ছে কিভাবে তারা তাদের চিকিৎসা য় ভাল হচ্ছে। ধন্যবাদ জানাচ্ছে ফোনে বা পেজে মেসেজ দিয়ে। বাংলাদেশে এত এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এমন কিছু চিকিৎসক আছেন যারা কিনা অসম্ভব রকমের ডেডিকেটেড ডাক্তার নিজের অসুস্থতাকে তোয়াক্কা না করে রোগিদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছে । এবং রোগি রা জানেও না যে তাদের চিকিৎসক নিজেই সেই ভয়ানক ভাইরাসে আক্রান্ত হতেও পারে। এত টাই মনোবলের সাথে কাজ করে যাচ্ছে তারা। হ্যাটস অফ তোমাদের। মহান আল্লাহ পাক তোমাদের মংগল করুন। এরকম শত শত ডাক্তার নিজেদের জীবনের তোয়াক্কা না করে কাজ করে যাচ্ছে প্রতি মুহুর্তে। আমরা তাদের সহায়তা করি। ঘরে থাকি। এটাই হবে আমাদের এক মাত্র চেস্টা।

 

লেখিকা-

ফাউন্ডার, ঢাকা কাস্ট লিমিটেড

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us at Facebook

Default description


This will close in 30 seconds