করোনা কালে পুষ্টি সমৃদ্ধ ঈদের মেন্যু – Khoborbd24
জীবনধারা

করোনা কালে পুষ্টি সমৃদ্ধ ঈদের মেন্যু

সাদিয়া সারতাজ

ত্যাগ ও মহিমার রমজানের পরেই আসে আনন্দের ঈদ। কিন্তু ২০২০ সালের এই ঈদুল ফিতর মুসলিমদের জন্য অনেকটাই ভিন্ন। মহামারী করোনা আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন কে অনেকটাই বদলে দিয়েছে, যার প্রভাব ঈদের দিনও হয়তো দেখা যাবে। ঈদের নামাজ থেকে শুরু করে বাড়িতে মেহমান আসা কিংবা প্রিয়জনের সাথে বাইরে ঘুরতে যাওয়া সব কিছুতেই সীমাবদ্ধতা দেখা যাবে, তেমনি ঈদের মেনুতেও মানতে হবে কিছু সীমাবদ্ধতা এবং কিছু সতর্কতা। সাধারণত ৩০ দিন রোজা রাখার পর ঈদের দিনের খাবারটা অনেকটাই অধিক তেল যুক্ত, ভারী হয়ে থাকে যা অনেক সময় দিন শেষে কোষ্টকাঠিন্য, আমাশয়, ডায়রিয়া, বুকে জ্বালাপোড়া এবং গ্যাস এর সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু এবারের ঈদে এইসব সমস্যা ছাড়াও রয়েছে কোরোনার ভয় , যাতে জ্বর, সর্দি, কাশির সাথে হতে পারে ডায়রিয়া এবং বমি। এই বিশেষ ঈদের মেনুটাও বিশেষ হওয়া প্রয়োজন। ঈদের খাবারের মেনু অবশ্যই সুষম হতে হবে এবং খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত ভিটামিন এ, ডি, ই , সি এবং সেলিনিয়াম, জিংক, মেগনেসিয়াম, আইরন সমৃদ্ধ হতে হবে। এর সাথে রাখতে হবে প্রচুর পরিমান পানি এবং পানীয়।

শুরুতেই সকালের নাস্তায় ভিটামিন এবং মিনারেল সমন্বিত যেকোনো একটি ফলের জুস যেমন – তরমুজ, পাকা পেঁপের বা টক দইয়ের লাসসি রাখা যেতে পারে। অল্প তেল দিয়ে পরোটা বা রুটির সাথে ডাল সবজি দিয়ে চড়চড়ি এবং একটি ডিম্ রাখা যেতে পারে।

দুপুরে সবাই চায় ভারী কিছু খেতে সেক্ষেত্রে পরিমিত তেল দিয়ে পোলাও রান্না করা যায়, এতে যদি দুধ বা ত্বক দইটা ব্যবহার করা যায় তাহলে পুষ্টি গুন্ অনেকটাই বেড়ে যায় এবং রান্নায় তেলটাও অল্প লাগে। বাসায় উভয় গরু এবং মুরগির মাংস রান্না হলে পরিমিত পরিমানে দুইটাই খাওয়া যেতে পারে, অবশ্যই তেলের ব্যবহার সীমিত হতে হবে, প্রয়োজনে টক দই বা সিরকা দিয়ে মাংস কষালে অধিক তেলের প্রয়োজন হয় না। খাদ্য তালিকায় কাবাব থাকলে তাতে ডালের পরিমান টা বেশি রাখতে হবে এবং ডুবো টেলি না ভেজে অল্প তেলে শ্যালো ফ্রাই করতে হবে। দুপুরের খাবারে অবশ্যই সালাদ রাখতে হবে সাথে লেবু বা কাঁচা মরিচ যা ভিটামিন সি এর জোগান দিবে। মিষ্টি কোমল পানীয়ের পরিবর্তে লেবু দিয়ে জিরা পানি খাওয়া যেতে পারে অথবা শুধু তেতুল পানি, যা হজমে সাহায্য করবে।

বিকেলের নাস্তায় চিনি ছাড়া ফলের কাস্টার্ড রাখা যেতে পারে, অথবা সবজির পুরি।

রাতে হালকা খাওয়াটাই উত্তম। চেষ্টা করবেন এসময় চিকেন গ্রিল বা চিকেন বা ভেজিটেবলে সূপ তার সাথে একটা বা ২ তা রুটি দিয়ে রাতের খাবারটা শেষ করার। যদি গ্যাসের সমস্যা না থাকে তাহলে প্রচুর সালাদ ও খাওয়া যাবে।

অবশ্যই ৮-১০ গ্লাস পানি এবং বিভিন্ন পানিও খাদ্য তালিকায় রাখবেন।

পারলে সামান্য একটু হাঁটাহাঁটিও করে নিতে পারেন, যা বাড়তি ক্যালোরি খরচে আপনাকে সাহায্য করবে।

 

লেখিকা- এম. ফিল., পুষ্টিবিদ, ডায়েট ফর হেলদি লাইফ

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us at Facebook

Default description


This will close in 30 seconds