ঈদের একাল-সেকাল – Khoborbd24
ঈদ সংখ্যা

ঈদের একাল-সেকাল

ইসমাইল হোসেন

 

ঈদ শব্দটা শুনলেই মনের মধ্যে এক অনাবিল আনন্দ চলে আসে। জীবনে প্রায় ৪৬ টার মতো ঈদ পার করেছি। এর মধ্যে প্রায় আট থেকে দশটার কথা খুব মনে করতে পারি না। তখন যে খুবই ছোটো ছিলাম। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বুঝেছি হয়তো ক্লাস ওয়ান কি টু থেকে। আহ কি সেই দিনগুলো ছিলো! ছোটোবেলার সেই ঈদগুলো মনে আজও দাগ কেটে আছে। রোজার ঈদের আনন্দটা একটু বেশিই হতো। সবাই সারামাস রোজা রেখে ঈদের আগের রাতে চাদ দেখে যে তৃপ্তিটা পেতাম তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। বন্ধুদের সাথে ঈদকার্ড বিনিময় ছিলো এক অন্যতম মজার বিষয়। হরেক রকমের ঈদের কার্ড বাজার থেকে কিনে এনে প্রিয় বন্ধুদের দিতাম। আমিও পেতাম অনেকগুলো। ঊনত্রিশ রমজান থেকেই ঈদের একটা আমেজ পেতাম। ঊনত্রিশ তম রোজার ইফতার সেরে রাস্তায় যেতাম চাঁদ দেখতে। যদি দেখতাম চাঁদ উঠেছে কে আর পায় আমাদের। খুশিতে সবাই দৌড়াদৌড়ি করতাম। আর যদি দেখতাম চাঁদ উঠে নাই অর্থাৎ রোজা ত্রিশটাই রাখতে হবে তখন নিজেরা এই বলে নিজেদের সান্ত্বনা দিতাম – উনত্রিশ রোজা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারলাম আর একটা পারবো না।ঈদের আগের রাতে চাচাতো বোনদের মেহেদী দিয়ে দেওয়ার কাজটা আমারই করতে হতো। ওই টুকটাক ভালোই নাকি মেহেদী দিয়ে দিতাম ওরা আজও বলে। কি সে তাদের অপেক্ষা! কখন ভাইয়া আসবে ওদের মেহেদী দিয়ে দিবে। ওরা কে মেহেদী আগে দিবে তা নিয়ে কিন্তু কম ঝগড়া হতো না। যে আগে দিবে তারটা আগে শুকাবে এই ছিলো মুল কথা। যখন আমি তাদের মেহেদী দিয়ে দেওয়ার জন্য আসতাম ওদের চোখেমুখে যে হাসি দেখতে পেতাম তা আজ অনেক দামি উপহারেও আর পাওয়া যায় না। উঠানে চাদের আলোয় বসে মেহেদী দিয়ে দিতাম। ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নাস্তা খেয়ে যেতাম ঈদগাহে। বন্ধুদের সাথে কোলাকুলি না করলে যেন ঈদই মনে হতো না। তারপর সারাদিন ঘোরাঘুরি। এখনও ঈদ আসে যায় কিন্তু ওই মজাটা আর পাই না। ঈদকার্ডের পরিবর্তে মেসেঞ্জারে ঈদের শুভেচ্ছা আসে। বোনদের আর মেহেদী দেওয়া হয় না। ঈদের দিন ওই উদ্দিপনাটা আর কাজ করে না। সত্যি কথা বলতে আর পাঁচটা দিনের মতই এখনকার ঈদের দিন মনে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু হবার পর থেকে রোজাটা ক্যাম্পাসেই শেষ হয়ে যায়। বাড়ি আসি পঁচিশ রোজার দিকে। তবে ক্যাম্পাসেও যে মজা হয় না তা কিন্তু নয়। প্রথম দিকে যেহেতু গনরুমে থাকতে হতো তাই সবাই মিলে প্রতিদিন ইফতারপার্টিটা প্রচুর উপভোগ করতাম। তারপর যখন সবাই রুমে উঠলাম রুমমেটদের সাথেই সেহরি আর ইফতার সেরে নিতাম। এখন তো অনার্স লাইফটাও শেষ। জানিনা এর পরের ঈদগুলো আরও কতটা অনুভূতিহীন হবে!ছোটোবেলার সেই ভোলাভালা আমরা আজ অনেক ফরমাল। ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে কে কি করছি ভবিষ্যতে কার কি পরিকল্পনা এইসব নিয়েই এখন আড্ডা হয়। এবারের ঈদ নিয়ে কি আর বলবো। পুরো বিশ্ব এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। যতটুকু জানি ঈদের নামাজ ঘরে বা মসজিদে পরতে হবে। এক আতংকে সবাই ঈদের আমেজটা ভুলেই গেছে। যদিও অনেকে অজ্ঞের মতো এবারের ঈদটাও উপভোগ করার জন্য নাকি পরিবারে দিকে ছুটছে। তাদের উদ্দেশ্য বলি আপনি ঈদ করতে গিয়ে যেন আবার পরিবারের কান্নার কারন না হন। হয়তো আপনি এই রোগে আক্রান্ত না কিন্তু যাত্রাপথে যে কারো মাধ্যমে আক্রান্ত হবেন না কে বলতে পারে। দেখা গেল পরিবারকে খুশি দেওয়ার জন্য আপনার যে প্রচেষ্টা তা হয়তো পরিবারের কান্নার কারন হলো। তাই এবারের ঈদটা সবাই যে যেখানে আছি সেখানে থেকেই করার চেষ্টা করি। আর আল্লাহর কাছে দোয়া করি অতিশীঘ্রই যেন সব ঠিক হয়ে যায়। সবাই ঘরে থাকুন, সাবধানে থাকুন। ঈদ মোবারক সবাইকে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us at Facebook

Default description


This will close in 30 seconds