জনগনের দোষ – Khoborbd24
মতামত

জনগনের দোষ

শফিক অপু

বাংলাদেশের সকল সমস্যার মূল কারন জনগনের সচেতনতা।ঈদে মানুষ বাড়িতে বেড়াতে গেলো।ঢাকায় তার বাসায় সব চুরি হইয়া গেছে।সমস্যা কি?সমস্যা হইলো বাসার লোক সচেতন না।তারা ঠিকমত ঘরকে সিকিউর করে যাইতে পারেনাই।রাস্তায় একটা মানুষ পথ পারাপার হবে।গাড়ির ধাক্কায় মরে গেলো।সমস্যা কি?লোকটা সচেতন না।সে রাস্তা পারাপারে সাবধানতা অবলম্বন করেনি।ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার করেনি।ডেঙ্গু মশার কামড়ে গনহারে মানুষ মারা গেলো।সমস্যা কি?সাধারন মানুষ সচেতন না।আশেপাশে ডেঙ্গু তৈরীর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।সমস্যার মূলেই জনগনের অসচেতনতা।

এবার আসি মূল বক্তব্যে।যারা দফায় দফায় জনগন সচেতন না বলেই রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন তাদের কাছে প্রশ্ন শুধু জনগনের সচেতনতাই কি এর সমাধান?ঈদের সময় ঢাকার মূল সমস্যা থাকে খালি বাসায় চুরি হয়ে যাওয়া।এই বিষয়ে নিরাপত্তার বিষয়ে যারা কাজ করে তাদের অগোচরে একটা চুরি সংগঠিত হওয়া কি তাদের কাজের অপারগতা প্রকাশ নয়?রাস্তায় মানুষ সচেতনভাবে রাস্তা পার হলোনা।এর শাস্তি কি মৃত্যুদন্ড।শুধু শুধু একজন পথচারী সচেতন নয় বলেই কি একজন ড্রাইভার তাকে মেরে ফেলে দিয়ে যেতে পারে।এখন অনেকে বলতে পারেন ভাই ড্রাইভার তো ইচ্ছা করে মারেনা।দূর্ঘটনার স্বীকার।তো ড্রাইভারের গাফিলতিতে যেই দূর্ঘটনা ঘটে তার দায়ভার কার?সহজে বুঝাই ঢাকার যতবড় রাস্তাই হোক সিটির ভিতরে সকল রাস্তায় একটা ভারী গাড়ি সর্বোচ্চ 40 এর গতিতে চলার নিয়ম।আর হালকা গাড়ি 50 এর গতিতে।রাস্তা সংকীর্নতার হিসেবে সেই গতি আরো কমে আসে।তো নিয়মের তোয়াক্কা না করে যেই ড্রাইভার 80- 90 এর গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে সে কি অপরাধী নয়?যার এইসব কিছু নজরদারিতে রাখার কথা,নিয়ন্ত্রন করার কথা তার কি দায় নেই?ডেঙ্গু হওয়ার জন্য কি শুধু সাধারন মানুষের অসচেতনতাই দায়ী?যাদের ঔষধ ছিটিয়ে পরিবেশ নিরাপদ রাখার কথা সেই সিটি কর্পোরেশনের কোন দায় নেই?ডেঙ্গু এখন পুরো বিশ্বে একটা সাধারন পর্যায়ের রোগ।সেখানে আমাদের দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়ে গেলেই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না?এটা কি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের দায় না?

সবশেষে,একটা তৃতীয় বিশ্বের দেশ,যেই দেশের 50 শতাংশ এর বেশি মানুষ নিরক্ষর তারা শুধু সচেতন না এই দোহাই দিয়ে সব যাচাই করে ফেলা উচিত নয়।যারা এই দেশ চালাচ্ছে সেই প্রথম শ্রেনীর অফিসাররা সবাই উচ্চশিক্ষিত।তাদের দায়িত্ব তারা কতটা পালন করছে এইটা যে দেখবে সে কি শুধু জনগনকে জাস্টিফাই করার জন্যই আছেন?আপনার দেশের আইন আপনার দেশের জনগন ভিত্তিক হওয়া বাঞ্চনীয়।যেই খাবার খেয়ে ইউরোপ অ্যামেরিকার মানুষ সুস্থ থাকছে আপনার দেশের মানুষ তো সেই খাদ্যে অভ্যস্থ না বা আপনিও তার সেই খাদ্য ব্যবস্থা দিতে পারছেননা,তাহলে যেই আইনে ইউরোপ অ্যামেরিকা নিজেদের সুরক্ষিত রাখছে আপনি কিভাবে সেই আইনে দেশের মানুষকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে চান?আপনার দেশের আইন হবে আপনার দেশের মানুষের মত।সেখানে দেশের মানুষ সচেতন নয় এটাই সকল সমস্যার সমাধাম নয়।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us at Facebook

Default description


This will close in 30 seconds