করোনা মোকাবেলায় ভিটামিন ডি – Khoborbd24
জীবনধারা

করোনা মোকাবেলায় ভিটামিন ডি

পুষ্টিবিদ তাসলিমা করিম দিনা

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা সবাই অনেক চিন্তিত সবথেকে বেশি চিন্তার ব্যাপার কোভিড-১৯ প্রতিরোধ কারি কোনো ঔষধ বের হয়নি।।
তবে ডাক্তার,বিজ্ঞানী, পুষ্টিবিদরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কিভাবে এই আপতকালীন সময়ে জনগনকে বাঁচানো যায়।।
যখন কোনো রোগের ঔষধ পাওয়া যায় না তখন আমরা নিজেদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিজেকে এই রোগ থেকে রক্ষা করতে পারি তাই কোভিড-১৯ থেকে বাঁচার জন্য নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আমাদের উচিত ভিটামিন ডি পরিমান মত সেবন করা।।
ভিটামিন ডি সর্দি কাশির মত সাধারণ ফ্লু এর হাত থেকে রক্ষা করে।।

আমরা সবাই জানি সূর্যের আলো আমাদের দেহে ভিটামিন ডি তৈরী করে।।সাধারণত সকাল বেলার রোদ শরীরে ভিটামিন ডি তৈরীতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।।তাই প্রতিদিন ৩০/৪৫ মিনিট রো গায়ে লাগানো উচিত।
তবে তা সকাল ১০-১১টা এবং দুপুর ২-৩টা পর্যন্ত যে রোদটা পাই সেটাতে আল্ট্রাভায়োলেট-বি রশ্মি থাকে যা শরীরে ভিটামিন ডি তৈরীতে সাহায্যকারী রশ্মি।।
বাকি সময় গুলোতে আল্ট্রাভায়োলেট-এ রশ্মি থাকে যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর।।
এছাড়াও শিশুদের এবং বয়স্ক লোকদের যাদের হাড়ে ব্যাথা জনিত সমস্যা রয়েছে তাদের নিয়মিত শরীরে রোদ লাগানো দরকার।।

খুব সামান্য পরিমান ভিটামিন ডি খাবার থেকে পেয়ে থাকি তবুও আমাদের ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। যেমনঃ
দই,
দুধ,
তেল যুক্ত মাছ,
সামুদ্রিক মাছ,
কমলার রস,
কলিজা
ইত্যাদি খাবার ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ তাই আমাদের পুষ্টি চাহিদা পুরন করতে এইসব খাবার খাওয়া উচিত।।
তবে মনে রাখতে হবে শরীরে রোদ লাগানো থেকেই সর্বোচ্চ ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব যা খাবার এবং সাপ্লিমেন্ট থেকে পাওয়া সম্ভব না।।

কোভিড-১৯ এর এই দিনগুলোতে আমরা বেশ কয়েক মাস যাবত ঘর বন্দি এর ফলে মনে অবসাদ তৈরী হওয়াটা খুবই সাধারণ ব্যাপার।। ভিটামিন ডি ডিপ্রেশন বা মনের অবসাদ দুর করতে অনেক বেশি কার্যকরি ভূমিকা পালন করে থাকে।।
এছাড়াও  ভিটামিন ডি শরীরের অভ্যন্তরীণ জ্বালাপোড়া কমাতে সহায়তা করে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অত্যন্ত অসুস্থ ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ প্রদাহের কারণে ফুসফুসে বড় ধরণের ক্ষতি হয়, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর হতে পারে ভিটামিন ডি।।

ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট বা ট্যাবলেট খুবই নিরাপদ হলেও প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিমাণ খেলে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি হতে পারে।

আপনি যদি ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিতে চান:

১-১০ বছরের শিশুদের দিনে ৫০ মাইক্রোগ্রামের বেশি নেয়া উচিত নয়
১২ মাসের নিচে শিশুদের দিনে ২৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি নেয়া উচিত নয়।
প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ১০০ মাইক্রোগ্রামের বেশি নেয়া উচিত নয়।।

মহামারি এর সময় গুলোতে সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি পরিমানে ভিটামিন গ্রহন করা উচিত যেনো দেহ সবল থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে থাকে।।

ঘরে থাকুন
সুস্থ থাকুন।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us at Facebook

Default description


This will close in 30 seconds