অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম – Khoborbd24
মতামত

অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম

শাহজাহান

 

করোনার ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলছে লকডাউন। তাই এই সংকটময় মুহূর্তে সবাই বাড়িতেই অবস্থান করছে। বন্ধু-বান্ধব,আত্মীয়-স্বজন কারও সাথে কারও সামনা-সামনি দেখা সাক্ষাৎ নেই। তাই তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে মোবাইলে কথা বলা। সেই সাথে বিভিন্ন সোসাল মিডিয়া যেমন- ফেইসবুক,ইউটিউব,ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ,ইমো ও টুইটার ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।এই মাধ্যমগুলো আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিনোদনেরও বড় উৎস। স্কুল -কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া সকল শিক্ষার্থীর একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ অনেকদিন ধরেই। তাই এসময় অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত দক্ষতাকে বৃদ্ধি কারার জন্য বিভিন্ন অনলাইন কোর্স করে আসছিল।বিভিন্ন প্রাইবেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকদিন থেকেই অনলাইনে তাদের একাডেমিক ক্লাস করে আসছে। তাই পাবলিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাও অনলাইনে ক্লাস করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং কয়েকটি ইউনিভার্সিটিতে ক্লাসও শুরু হয়। কিন্তু ক্লাস শুরু হতে না হতেই ২০২০-২১ সালের বাজেট ঘোষণা করা হয়। প্রস্তাবিত সেই বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর। আর ইন্টারনেট ব্যবহার ছাড়া অনলাইন ক্লাস করা অসম্ভব। একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে যেমন ধনীর ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে ঠিক তেমনি রিকশা চালক,দিনমজুর,দরিদ্র কৃষকের ছেলেমেয়েও পড়াশোনা করে।ধনীর ছেলেমেয়ে অনায়াসে বাবার টাকায় তাদের দিন অতিবাহিত করে।কিন্তু বাকি সবার দিনশেষে টিউশনির উপর নির্ভর করতে হয়। তাদের দৈনন্দিন খরচের উৎস হল সেই টিউশনির মাসিক বেতন। আর এখন করোনা কালে সবাই বাড়িতে অবস্থান করছে এবং লকডাউন থাকার কারনে তাদের পরিবারের আয়েরও কোনো উৎস নেই।আর এমন অবস্থায় তাদের পক্ষে অনলাইনে ক্লাস করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ের ফলে মোবাইল-ফোন এখন সহজলভ্য বস্তু। আট-নয়শত টাকা হলেই কিনা যায় মোবাইল। বলতে গেলে দেশের সর্বস্তরের মানুষ এখন মোবাইল ব্যবহার করে।কিন্তু এই সংকটময় মুহূর্তে কারও কোন আয়ের উৎস নেই। যেখানে সাধারণ মানুষের দুবেলা খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকাটাই দিনদিন কষ্ট সার্ধ হয়ে পড়ছে।সেখানে এই বাড়তি কলরেটে মোবাইলে কথা বলা, একে অন্যের খোঁজ খবর নেওয়া অনেক পরিবারেরই সার্ধের বাইরে চলে গেছে।তাই কতৃপক্ষের কাছে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের কথা একটু বিবেচনা করে দেখার জন্য অনুরোধ রইলো।

লেখক – শাহজাহান তৃতীয় বর্ষ, পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদ। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us at Facebook

Default description


This will close in 30 seconds