বুক রিভিউ-ভার্সিটি লাইফ – Khoborbd24
সাহিত্য

বুক রিভিউ-ভার্সিটি লাইফ

রেজাউল ইসলাম রেজা

পড়ালেখার সাত সাগর পাড়ি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় নামক ওপারের দৃশ্যটা দেখা খুব একটা সহজ কাজ নয়। আর এই সুখকর মঞ্চে নিজের নাম লেখাতে পারলেও, ভবিষ্যতের পথ যতটা না মসৃণ হয়, ঠিক ততটাই হোঁচট খাওয়ার ভয় থাকে। বলছি বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নামক সিলেবাসের কথা। যেখানে পরাধীনতার থেকে স্বাধীনতার অধ্যায় বেশি। আর এই সীমাবদ্ধতাই পার্থক্য করে দেয় ভবিষ্যত প্রজন্মের নায়ক ও খলনায়কদের মধ্যে। যদিও সময়ের বেড়াজালে আবির্ভাব ঘটে, চেতনা জাগ্রত হয়। অবশেষে উপলব্ধির সীমায় প্রবেশ করলেও, ততক্ষণে পথভোলা পথিকের মতো আর ফেরা যায়না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য ভর্তি হওয়া অর্ধপাকা মন এগুলো বুঝতে চায়না। বরং তার কাঁদা মাটির মতো নমনীয়তাকে খুব সহজেই কাজে লাগায় বাহ্যিক প্রভাব। কেউ হয়তো ডুবতে ডুবতে জেগে ওঠে কেউবা আবার হারিয়ে যায় অতল গহ্বরে।
এই বিশ্ববিদ্যালয় নামক অভিজ্ঞতা আমাদের কম বেশি অনেকেরই অাছে। তবে অভিজ্ঞতাটুকু শুধু নিজের মননের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। যদিও
একটা সময় নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেই। কিন্তু অভিজ্ঞতাগুলোকে আর ছাড়া হয়না। স্রোতের বিপরীতে গিয়ে এই অভিপ্রায়কে কালির অক্ষরে প্রকাশ করেছেন, বাস্তবরুপ দান করেছেন ‘ভার্সিটি লাইফ ‘ বইয়ের লেখক Mahbub Nahid
অসম্ভব সুন্দর একটি বই। বলা যায় ভার্সিটির ‘এ টু জেড’। এই বইয়ে তিনি ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া নতুন সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন। যা ভার্সিটিতে পড়ুয়া প্রত্যেকটি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বইয়ে সর্বমোট ৭৪ টি বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন। তন্মধ্যে ক্যাম্পাস, টিউশন, ছাত্র রাজনীতি, পরীক্ষা, সিজিপিএ, সময়ানুবর্তিতা, উদ্দোক্তা, স্বপ্ন, লিডারশীপ, খেলাধুলা, বিতর্ক, মেন্টর, টিমওয়ার্ক, বদাভ্যাস, ব্যর্থতা, চাকরি, বিসিএস, বইপড়া, কো-কারিকুলাম, অনুপ্রেরণা ইত্যাদি।
মাহবুব নাহিদ তার বইয়ে বলেছেন,
** “তুমিই তোমার পরিচায়ক। তবে কোনো স্কিলবিহীন তুমি, কোনো যোগ্যতাবিহীন তুমি নয়।’
** “জীবনটা লোকের না। যারা কিছু করে না,তারা হারেও না ।”
** “বিজিতরা হারার আগেই হেরে যায়; বিজয়ীরা জেতার আগে জিতে যায়”
** ”তুমি ভালো নাকি মন্দ সেটা মানুষ বলবে, কিন্তু কীভাবে ভালো হবে সেটা মানুষ বলবে না।’
** “Make yourself a brand. ”
এ ধরণের অসংখ্য উক্তি হৃদয় ছুঁয়ে যায়। লেখক তার বইয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়েছেন। একজন ছাত্রের অবশ্যই লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজেকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাংগঠনিক ও প্রযুক্তিগতভাবে গড়ে তুলতে হবে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যাতে তার অার বাকিদের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি হয় এবং তা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে এমন কিছু করা যাবে না, যেখানে লেখাপড়াই সহশিক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিনিয়ত মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দূরে থাকতে হবে।
পরীক্ষায় কিভাবে ভালো ফলাফল করতে হবে, নিজের স্বপ্নকে বাস্তব করতে হবে, এ ব্যাপারেও বিষদভাবে বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে একজন আদর্শ ছাত্রের মধ্যে যে যে গুণাবলী থাকা দরকার, সেগুলো অর্জনের ধাপগুলো চোখে অাঙ্গুল দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছেন। Personal development, presentation skill, communication, listening skill, writing skill, problem solving skill, leadership, confidence building, thinking and time management এর উপর জোড় দিয়েছেন।
বর্তমানে ছাত্র রাজনীতি শব্দটা শুনলেই কেমন জানি একটা আতঙ্ক কাজ করে। নতুন প্রজন্ম দিন দিন ছাত্র রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সকল আন্দোলন, সংগ্রাম এর পিছনে এই ছাত্রদের অবদানই অপরিসীম। ছাত্র রাজনীতির এই অবক্ষয় একদিনে হয়নি। আমাদের মতো ছাত্রদেরই আবার একতাবদ্ধ হতে হবে, সমূলে ফিরিয়ে আনতে হবে ছাত্র রাজনীতির হারিয়ে যাওয়া ভাবমূর্তি। লেখক সর্বশেষে বিখ্যাত মানুষদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উক্তি ও সফলদের ব্যর্থতার গল্প দিয়ে তার বইয়ের ইতি টেনেছেন।
পরিশেষে, ‘ভার্সিটি লাইফ’ বইটি পড়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করছি। জোসেফ ব্রডঙ্কি বলেছেন, “বই পোড়ানোর চেয়েও গুরুতর অপরাধ অনেক অাছে। সেগুলোর মধ্যে একটি হলো বই না পড়া”। অাবারও বলছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে সকল শিক্ষার্থীদের এই বইটি একবার হলেও পড়া উচিত।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like us at Facebook

Default description


This will close in 30 seconds